1. domhostregbd@gmail.com : devteam :
  2. wearesouthasian@gmail.com : editor :
  3. mthakurbd@gmail.com : executiveeditor :
  4. mollah.ridom.press@gmail.com : Masud Hasan : Masud Hasan
Title :
রায়পুরা পৌরসভায় মুখে মাস্ক না থাকার কারণে দুটি ঔষধ দোকানে ২৫০০ টাকা জরিমানা চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১ কেজি হেরোইনসহ র‌্যাবের হাতে আটক যুবক পদ্মা নদীর পাড় থেকে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ২ হাজার কেজি জাটকা জব্দ নৌ পুলিশের অর্জন : মুক্তারপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ি কর্তৃক ২,৫০,০০০০০ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল উদ্ধার ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় মোবাইল কোর্টে ৪৯টি মামলায় প্রায় ৭৮ হাজার টাকা জরিমানা আদায় লামায় লক ডাউন কার্যকরে আন্তরিকতার সাথে কাজ করছে পুলিশ করোনা টিকার ২য় ডোজ নিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী অর্থ মন্ত্রীর মেয়ের স্বামীর মরদেহ তালা ভেঙ্গে উদ্ধার নুরের বিরুদ্ধে ধর্মীয় উসকানিমূলক বক্তব্যের অভিযোগে মামলা আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে,এটাই স্বাভাবিক

দিন মজুরের ছেলে মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেলেও! ভর্তি অনিশ্চিত

  • Update Time : Wednesday, April 7, 2021
  • 53 Time View


নিজস্ব প্রতিনিধি:
ইসমাইল হোসেন। পিতা নুরুল ইসলাম বেপারী কাজ করেন দিন মজুরীর। ছেলে মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেলেও ভর্তি আর্থিক দুশ্চিন্তাই এখন প্রধান কারণ হয়ে দাড়িয়েছে তার। মেধার জোরে সব বাধা জয় করে মেডিকেলে ভর্তি হওয়া স্বপ্ন পূরণ হলেও অর্থ সংগ্রহ হচ্ছে না এখন। ছোট বেলা থেকেই ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন কিন্তু সেই স্বপ্ন সত্যিই হওয়ার দারপ্রন্তে এসেই মুখে নেই হাসি। এ-যেনো দুশ্চিন্তার শেষ নেই ইসমাইলের। চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা।
জানা যায়,২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস কোর্সের প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় মেধাক্রমে ৩১৬৬তম হয়ে এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ দিনাজপুরে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন বরগুনার তালতলী উপজেলার মোমেসেংপাড়া এলাকার দিনমজুর নুরুল ইসলাম বেপারীর ছেলে মো. ইসমাইল। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ কেন্দ্র থেকে পরীক্ষায় অংশ নেন। ভর্তি পরীক্ষায় ১০০ নম্বরের মধ্যে তিনি পেয়েছেন ৭১ নম্বর। ইসমাইলের শিক্ষা জীবনজুড়েই চিলো আর্থিক দুশ্চিন্তা। গ্রামের বাড়িতে রয়েছে একটি ছোট টিনের ঘর। সেই একটি ঘরেই থাকেন পরিবারের সবাই। মেডিকেলে ভর্তি ও পড়ার খরচ জোগানোর সামর্থ্য নেই তার পিতার । ইসমাইলের তিন বোন ও একমাত্র ছোট ছেলে তিনি। বাবার দিন মজুরের টাকা দিয়ে তিনটি বোনকেই এইচএসসি পাশ করিয়ে বিয়ে দিয়ে দেন।ইসমাইল তালতলী সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ২০১৭ সালে জিপিএ-৪.৯১ পেয়ে এসএসসি এবং তালতলী সরকারি কলেজ থেকে ২০১৯ সালে জিপিএ-৪.৩৩ পেয়ে এইচএসসি পাস করেন। ২০১৯ সালে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে গনিত বিভাগে চান্স পান কিন্তু গতবছরের রেজাল্ট আশানুরুপ না হওয়ায় ২০২০ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় আবারও অংশ গ্রহন করে জিপিএ-৫ অর্জন করেন। ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় আংশগ্রহন করে মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পায়।
পরিবারের একমাত্র বাবার আয়ের উপরেই নির্ভর করেই চলে সংসার। এ অবস্থায় ছেলের পড়াশুনা চালিয়ে নিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তার বাবাকে। ছেলেকে মেডিকেলে ভর্তি করে পড়াশুনা চালিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা তার নেই। বিত্তবান মানুষের কাছে সাহায্য-সহযোগিতা চেয়েছেন। চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে মহামারি করোনা পরিস্থিতিতে গত কয়েক মাস নিজ বাড়িতেই রাতদিন কঠোর পরিশ্রম করে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেন ইসমাইল। তার সাফল্যে খুশি পরিবারসহ এলাকার সবাই। কিন্তু ভর্তি হওয়া সুযোগ পেলেও রয়েছে ভর্তির অনিশ্চিয়তা।
মেডিকেল ছাত্র ইসমাইল জাগো নিউজকে বলেন, আমার ছোট বেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল চিকিৎসক হওয়ার। আল্লাহ আমাকে সেই সুযোগের দারপ্রন্তে পৌছাইয়ে দিয়েছেন। এজন্য আল্লাহর কাছে হাজার শুকরিয়া, তবে আমার মনে হয় ডাক্তারি পড়া সম্ভব হবে না। আমাদের আর্থিক অবস্থা এতোই খারাপ। আর বাবার পক্ষে আমার লেখাপড়ার খরচ চালানো অসম্ভব। আমি মেডিকেলে ভর্তিও জন্য ফরম কিনেছি দুলাভাইর টাকায়। আর বরগুনা থেকে দিনাজপুর আসা যাওয়ার খরচাই অনেক। কিভাবে যে লেখাপড়া চালাবো জানি না। তাই দেশের স্ব-হৃদয়বান ব্যক্তি যদি আমার লেখাপড়া করার জন্য সাহায্য করতেন তাহলে আমার ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন পূরন হতো। আমি দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই, যেন পড়াশোনা শেষ করে ভালো একজন চিকিৎসক হয়ে অসহায় দরিদ্র মানুষের সেবা করতে পারি।ইসমাইল আরও বলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমি আকুল আবেদন জানাচ্ছি, তিনি যেন আমার লেখাপড়া চালানোর দায়িত্ব নেন। তার সহযোগিতা ছাড়া আমার পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আমি সরকারের সহযোগিতায় পড়াশোনা সম্পন্ন করে ভালো একজন চিকিৎসক হতে চাই।
ইসমাইলের বাবা নুরুল ইসলাম বলেন, আমি একজন দিন মজুর । কোনো দিন কাজ পেলে ভাত জুটে। কাজ না পেলে পরিবার নিয়ে কষ্টে কাটে। তবুও আমি আমার ছেলেকে লেখাপড়া করিয়েছি। আমার ব্যক্তিগত কোনো জমি নেই। এখন আমার ছেলের স্বপ্ন পূরণের বড় বাধাঁ হয়ে দাড়িয়ে টাকা। আমার ছেলে গরিবের ডাক্তার হওয়ার খুব আশা। সে ছোট বেলা থেকেই ডাক্তার হবে। আমার ছেলে জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে সহযোগিতা চাই। তিনি আমার ছেলেকে সহযোগিতা করবেন বলে আমি বিশ^াস করি।
তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ কাওসার হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, আমি শুনেছি ইসমাইল নামের এক মেধাবী ছাত্র দিনাজপুরের মেজর আঃ রহিম মেডিকেল কলেজে অজপাড়াগাঁয়ের ছেলে ইসমাইল ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। কিন্তু টাকার অভাবে এখন ভর্তি অনিশ্চিত এটা খুবই দুঃখজনক। প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চেয়ে আবেদন করেন তাহলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের সকল ধরণের সহযোগিতা করা হবে।তালতলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রেজবি উল কবির জোমাদ্দার জাগো নিউজকে বলেন, ইসমাইল তালতলীর গর্ব। তাকে অভিনন্দন জানাই। খুবই দুঃখ প্রকাশ করছি টাকার অভাবে এখন তার ভর্তি অনিশ্চত। উপজেলা পরিষদ ও ব্যক্তিগত ভাবেও তাকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে। পাশাপাশি বিত্তবান মানুষের কাছে আমার আহ্বান তারা ইসমাইলকে সাহায্য-সহযোগিতা করার জন্য। যাতে ইসমাইল ভর্তির সুযোগ পায়।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Portal Developed By ekormo.Com